পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন: তৃণমূলের পরাজয়, নাকি ভারতের বিপর্যয়ের পদধ্বনি?

ইন্টারসেপ্টপশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন: তৃণমূলের পরাজয়, নাকি ভারতের বিপর্যয়ের পদধ্বনি?

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলকে যদি কেবল তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় কিংবা বিজেপির বিজয় হিসেবে দেখা হয়, তাহলে বিশ্লেষণটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। কারণ এই নির্বাচনের ফলাফলের ভেতরে শুধু একটি রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত নেই; বরং ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার জন্য এক গভীরতর সংকেত লুকিয়ে আছে।

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে প্রায় ৯২ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে—যা ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতির রেকর্ড হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ২০৬টি আসনে বিজেপি জয়ী হয়েছে; পক্ষান্তরে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েও মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেসের ভাগ্যে জুটেছে মাত্র ৮১টি আসন। অন্যান্য দল প্রায় ১২ শতাংশ ভোট পেয়ে পেয়েছে ৭টি আসন। এই হলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মোট ২৯৪ আসনের সামগ্রিক ভাগ-বাটোয়ারা।

কিন্তু এই ফলাফল ২০২১ সালের চিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। তখন তৃণমূল কংগ্রেস ২১৫টি আসনে জয়ী হয়েছিল, আর বিজেপি ছিল মাত্র ৭৭টিতে। অর্থাৎ মাত্র এক নির্বাচনী চক্রের ব্যবধানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র এমনভাবে উল্টে গেল যে, প্রশ্ন না তুলে উপায় থাকে না—এটি কি স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, নাকি এর পেছনে আছে আরও গভীর কোনো নির্বাচনী প্রকৌশল?

উল্লেখ্য, SIR বা Special Integrated Review—অর্থাৎ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে; যাদের বড় অংশই সংখ্যালঘু এবং বিশেষভাবে মুসলিম ভোটার। গণতন্ত্রে ভোটার তালিকা সংশোধন একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হতে পারে। কিন্তু যখন সেই প্রক্রিয়ার ফলাফল কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়, অঞ্চল বা রাজনৈতিক পছন্দের ভোটারদের ওপর অসমভাবে প্রভাব ফেলে, তখন সেটি আর নিছক প্রশাসনিক বিষয় থাকে না; তা হয়ে ওঠে গণতন্ত্রের নীরব রক্তক্ষরণ।

এবার ভোটার উপস্থিতির হিসাবটিও একটু দেখা দরকার। পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটার প্রায় ৭.০৫ কোটি। এর মধ্যে প্রবাসী এবং ভারতের অন্যান্য রাজ্যে অবস্থানরত ভোটারের সংখ্যা যদি ১০ থেকে ১৫ শতাংশও ধরা হয়, তাহলে প্রায় ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ বাস্তবিক অর্থেই ভোট দিতে অক্ষম থাকার কথা। এর বাইরে মৃত ভোটার, নকল ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার এবং স্বাভাবিক অনুপস্থিতির একটি অংশ থাকে। সাধারণত ৫ থেকে ১০ শতাংশ ভোটার নানা কারণে ভোট দিতে পারেন না বা দেন না। এসব বিবেচনায় নিলে ৭৫ শতাংশের বেশি ভোটার উপস্থিতিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। বাস্তবসম্মত সর্বোচ্চ সীমা ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যে থাকার কথা।

তাহলে সোজা প্রশ্নটি ওঠে—বাংলাদেশে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভারত কি এখন নিজের দেশেও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করে দিয়েছে?

তবে বাংলাদেশ ও ভারতের বাস্তবতা এক নয়। সামান্য বৈচিত্র্য বাদ দিলে বাংলাদেশের জনমিতিক গঠন তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সমজাতীয়। কিন্তু ভারত একটি বিপুল বৈচিত্র্যময় রাষ্ট্র। ভারতের রাজ্য সংখ্যা ২৮টি এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ৮টি—অর্থাৎ মোট প্রায় ৩৬টি প্রশাসনিক ইউনিট। আয়তনের দিক থেকে ভারত বাংলাদেশের প্রায় ২২ গুণ বড়; জনসংখ্যার হিসাবে প্রায় সাড়ে আট গুণ বড়।

ভারতে ৭০টি বৃহৎ জাতিগোষ্ঠীসহ মোট জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংখ্যা প্রায় ৪,৬৩৫টি। ভারতের সংবিধানের অষ্টম তফসিলে স্বীকৃত ভাষা ২২টি। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ভারতে ১২১টি প্রধান ভাষা এবং প্রায় ১,৫৯৯টি উপভাষা প্রচলিত ছিল। অর্থাৎ ভারত বাংলাদেশের মতো ছোট ও তুলনামূলকভাবে সমজাতীয় রাষ্ট্র নয়। এটি এক বিশাল, বহুস্তরীয়, বহু ভাষিক, বহু জাতিগত এবং বহু ধর্মীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা।

এই কারণেই ভারতের গণতন্ত্র, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে তার অভিঘাত হবে ভয়াবহ, ব্যাপক এবং সুদূরপ্রসারী। বাংলাদেশে ১/১১ বা হাসিনার মতো কোনো স্বৈরতান্ত্রিক বন্দোবস্ত এলে জনগণের চাপ, আন্দোলন বা রাজনৈতিক পালাবদলের মাধ্যমে সেটিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার বাস্তবতা তৈরি হতে পারে। কিন্তু ভারতের মতো বিশাল ও জটিল রাষ্ট্রে যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেতর থেকে ভেঙে পড়ে, তাহলে সেই ধাক্কা সামলানো এত সহজ হবে না।

এই আলোচনাটি জরুরি, কারণ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের পর বাংলাদেশে অনেকে শুধু জুজুর ভয় দেখছেন। তারা ভাবছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসা মানেই বাংলাদেশের জন্য বিরাট বিপদ। অথচ বাস্তবতা হলো, ভয়টা বাংলাদেশের চেয়ে ভারতেরই বেশি পাওয়া উচিত। কারণ ভারতের ভেতরের বৈচিত্র্য, বৈষম্য, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, আঞ্চলিক ক্ষোভ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা—সবকিছু মিলিয়ে এই ধরনের রাজনৈতিক উত্থান ভারতের জন্যই দীর্ঘমেয়াদে বিপর্যয়ের পদধ্বনি হয়ে উঠতে পারে।

প্রশ্ন হলো—গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে গেলে ভারতের মতো বড় রাষ্ট্র কী ধরনের অভ্যন্তরীণ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে?

প্রথমত, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যখন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়, তখন সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা এবং অধিকার সরাসরি হুমকির মুখে পড়ে। ধর্মীয় মেরুকরণ বাড়ে, দাঙ্গা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। ভারতের ইতিহাসে ১৯৪৭, ১৯৮৪ এবং ২০০২ সালের ঘটনাগুলো স্মরণ করলে বোঝা যায়—প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলে রাষ্ট্রের ভেতরে কী ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।

দ্বিতীয়ত, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে—পাঞ্জাব, জম্মু-কাশ্মীর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গ—আঞ্চলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ বিদ্যমান। কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান যদি দুর্বল, পক্ষপাতদুষ্ট বা দমনমূলক হয়ে ওঠে, তাহলে এসব অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে জাতিগত সংঘাত নতুন মাত্রা পেতে পারে।

তৃতীয়ত, গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হলে সম্পদ বণ্টনে ভারসাম্যহীনতা বাড়ে। ধনী-গরিব বৈষম্য আরও প্রকট হয়। কৃষক আন্দোলন, শ্রমিক বিক্ষোভ, বেকার যুবকদের ক্ষোভ—এসব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত ও শোষিত হয়। কিন্তু সেই কাঠামো দুর্বল হয়ে গেলে আন্দোলনগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

উপরে যে সমস্যাগুলোর কথা বলা হলো, সেগুলো নিছক আর্থ-সামাজিক সমস্যা নয়। এগুলো দীর্ঘমেয়াদে ভারতের অখণ্ডতাকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে। বিষয়গুলো অনেকটা chain reaction-এর মতো কাজ করে।

ভারতের মাথাপিছু আয় প্রায় ২,৫০০ ডলার—যা বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের তুলনায়ও কম। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগের হার জিডিপির তুলনায় অত্যন্ত নিম্নমানের—স্বাস্থ্যে ২ শতাংশের নিচে, শিক্ষায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি। এর ফলে বিপুল সংখ্যক তরুণ প্রজন্ম দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সংকটে পড়ছে। যখন বেকার তরুণ দেখে তার সামনে কোনো অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই, আর রাষ্ট্র কেবল ধর্মীয় মেরুকরণ ও পরিচয় রাজনীতিতে ব্যস্ত, তখন সে হয় সহিংসতার পথে হাঁটে, নয়তো বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে।

এর সঙ্গে যদি যুক্ত হয় ভোটার তালিকা কারসাজির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নীরবতা এবং বিচার বিভাগের ক্রমাগত দুর্বলতা, তাহলে এই প্রবণতা একসময় রাষ্ট্রের জন্য বুমেরাং হয়ে ফিরতে পারে। যখন সংখ্যালঘুরা দেখে তাদের ভোটের কোনো মূল্য নেই, তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নির্বিঘ্নে চলতে পারে, এবং রাষ্ট্র তাদের সুরক্ষা দিতে আগ্রহী নয়—তখন রাষ্ট্রের প্রতি তাদের আনুগত্য ও আস্থা ভেঙে পড়ে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়, যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ২৭ শতাংশ, যদি মনে করে তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার হুমকির মুখে, তাহলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

ইতিমধ্যেই পাঞ্জাবে আন্দোলন আছে, উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে জাতিগত সংঘাত আছে, আর কাশ্মীরে দীর্ঘদিনের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের ইতিহাস রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক যোগসূত্রও আছে। পশ্চিমবঙ্গ যদি অস্থিতিশীল হয়, তাহলে তার প্রভাব সরাসরি উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও পড়তে পারে।

সুতরাং “ভারত অখণ্ডতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে”—এই কথাটি মোটেও অমূলক নয়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগ হয়েছিল; সেই ভাগের ক্ষত এখনও শুকায়নি। আর যদি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানই সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বিচ্ছিন্নতার আকাঙ্ক্ষা বাড়া অসম্ভব নয়।

যে কোনো দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের বিকল্প নেই। ভারতে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও হিন্দুত্ববাদের চরম উত্থানের ফলে উদার গণতান্ত্রিক দল হিসেবে পরিচিত কংগ্রেসের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়েছে। ভারতের লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ২০১৪ সালে পেয়েছিল ৪৪টি আসন, ২০১৯ সালে ৫২টি এবং ২০২৪ সালে ৯৯টি। অর্থাৎ কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও ২৭২-এর ম্যাজিক সংখ্যা থেকে এখনও তারা বহু দূরে। রাজ্য স্তরেও কংগ্রেসের উপস্থিতি এখন মূলত কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, হিমাচল ও রাজস্থানের মতো কয়েকটি রাজ্যে সীমাবদ্ধ।

দুর্বল বিরোধী দল ভারতের জন্য ক্রমেই অভিশাপে পরিণত হচ্ছে। কারণ বিরোধী দল দুর্বল হলে ক্ষমতাসীন দলের ওপর গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ কমে যায়। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও গণমাধ্যম একে একে ক্ষমতার প্রান্তিক অঙ্গ হয়ে ওঠে। তখন উগ্র জাতীয়তাবাদ ও হিন্দুত্ববাদ শুধু রাজনীতিকে নয়, সমাজ ও অর্থনীতিকেও অস্থিতিশীল করে তোলে।

ধর্মীয় ও জাতীয় উগ্রবাদের উত্থান দেশের স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করে; সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে; আর সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ভারতের মতো ভঙ্গুর heterogenous রাষ্ট্রের ভিতকে ভেতর থেকে ফোকলা করে দেয়। এটাই হলো সেই বিপজ্জনক chain reaction, যা শুরুতে চোখে পড়ে না, কিন্তু একসময় রাষ্ট্রের ভেতরের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।

তাই বলেছিলাম, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের জন্য খুব বড় মাথাব্যথার কারণ নয়। মনে রাখতে হবে, ১৫০ কোটি মানুষের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি শুনতে যত বড় লাগে, বাস্তবে সেটি একটি বিশাল বাজার মাত্র। আসল চিত্র হলো, ভারতের গড় মাথাপিছু আয় প্রায় ২,৫০০ ডলার—যা বাংলাদেশের চেয়েও কম। অর্থাৎ ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির আড়ালে রয়েছে এক গভীর বৈষম্য, বেকারত্ব, দারিদ্র্য এবং সামাজিক অস্থিরতার বাস্তবতা।

তাহলে বাংলাদেশের সমস্যা কোথায়?

বাংলাদেশের সমস্যা হলো দেশের ভেতরে লুকিয়ে থাকা, প্রায় বিনা পয়সায় সার্ভিস দিয়ে যাওয়া হিন্দুত্ববাদ ও ভারতের দালাল শ্রেণী। এই দালালগুলো বাংলাদেশে সামান্য কিছু হোক বা না হোক, সঙ্গে সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সংঘাত, হিন্দু নির্যাতন ইত্যাদির ধোঁয়া তোলে। পক্ষান্তরে ভারতে ধর্মীয় ও জাতীয় উগ্রবাদের উত্থানকে পুঁজি করে বাংলাদেশে ভীতি সঞ্চার করে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদকে সমীহ করাতে চায়। ভারতে সংখ্যালঘু—বিশেষ করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর যে সাম্প্রদায়িক ও সন্ত্রাসী আক্রমণ হয়, সে ব্যাপারে এই দালালগোষ্ঠী বরাবরই পিনপতন নীরবতা পালন করে।

সবচেয়ে বড় কথা হলো—ভারতের কোনো একটি রাজ্যে কে ক্ষমতায় এলো, কে গেল, সেটিই মূল বিষয় নয়। ভারতের কেন্দ্রে যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, সেটিই আসল বিবেচ্য বিষয়। উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ২০১৪ সাল থেকেই টানা কেন্দ্রে ক্ষমতায় আছে। তাছাড়া ভারতে কেন্দ্রে বিজেপি থাকুক কিংবা কংগ্রেস—বাংলাদেশ প্রশ্নে তাদের নীতির মধ্যে মৌলিক কোনো ফারাক কি সত্যিই আছে?

শেষ কথা হলো—বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতি ভারতের দয়ার ওপর নির্ভর করে না। আমাদের দেশের উন্নতি ও অগ্রগতি নির্ভর করে আমাদের ওপর, আমাদের জনগণের ওপর, আমাদের সরকারের ওপর। নতজানু ও ভারতের দালালদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসালে তার খেসারত জনগণকেই দিতে হবে। দেশপ্রেমিক মানুষদের ক্ষমতায় বসালে তারা জনগণের হয়ে দেশের স্বার্থ পাহারা দেবে। আর সরকার যদি ভারতের গোলাম হয়ে যায়, তার পরিণতি কী হতে পারে, তা তো আমাদের চোখের সামনেই দেখা গেছে।

হাসিনার পরিণতি কি এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে চলে?

আরো সংবাদ ও বিশ্লেষণ

অন্যান্য ট্যাগ সমূহঃ

জনপ্রিয় আর্টিক্যাল