টিম ট্রাম্প যে ১৫ দফা পরিকল্পনা ইরানের সামনে পেশ করেছে, সেটি শুরু থেকেই মৃত—D.O.A (Dead On Arrival).
এটি কোনো বাস্তবসম্মত কূটনৈতিক প্রস্তাব নয় বরং চাপিয়ে দেওয়া আত্মসমর্পণের নথি—যাকে “আলোচনা” নামে সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই তথাকথিত ‘অপরিকল্পিত পরিকল্পণা’—একদিকে কঠোর শর্ত আরোপ, অন্যদিকে এক মাসের যুদ্ধবিরতির ভিক্ষা—এর মধ্যে রয়েছে: ইরানের মাটিতে শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকর, নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোর্ডো স্থাপনাগুলোর পূর্ণ ধ্বংস, সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে বের করে দেওয়া, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ করা, হিজবুল্লাহ, আনসারাল্লাহ ও ইরাকি মিলিশিয়াদের অর্থায়ন বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা।
এই বিশাল দাবির বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে এক অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি—“নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের হুমকি বাতিল করা হতে পারে।”
এই জমে থাকা কল্পনাপ্রসূত দাবির বিপরীতে ইরানের একমাত্র বাস্তবসম্মত প্রতিক্রিয়া হতে পারে—খোররামশাহর-৪ তার “ভিজিটিং কার্ড” নির্বাচিত লক্ষ্যবস্তুতে ছড়িয়ে দেবে। অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রতিরোধ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রকৃত শর্ত নির্ধারণের পথই ইরানের কাছে যৌক্তিক।
আর সেই প্রকৃত শর্তগুলো কঠোর—
উপসাগরীয় অঞ্চলে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ ও আর কোনো যুদ্ধ হবে না—এই নিশ্চয়তা, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবসান, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধজনিত ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালীতে নতুন শাসনব্যবস্থা (যা ইতোমধ্যেই কার্যকর—মিশরের সুয়েজ খালের মতো টোল আদায়) এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অক্ষত রাখা।
উপসংহার স্পষ্ট: নরকীয় উত্তেজনার যন্ত্র থামেনি—বরং নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘুরেই চলছে।
পেট্রোইউয়ানে প্রবেশমূল্য দিয়ে সদস্য হওয়ার ক্লাব
এদিকে তেল ও গ্যাসের দাম এক বহুরূপী অস্থিরতার ঘূর্ণিতে আটকে গেছে—যার প্রভাব পড়ছে মুদ্রা, শেয়ারবাজার, পণ্যদ্রব্য, সরবরাহ শৃঙ্খল, এমনকি মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কার ওপরও। এটি ইতোমধ্যেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা, যার ধ্বংসাত্মক পরিণতি দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
যুদ্ধের আগে ইরান প্রতিদিন প্রায় ১১ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত, প্রতি ব্যারেল ৬৫ ডলারে বিক্রি হতো, যার ওপর ছিল ১৮ ডলারের ডিসকাউন্ট—অর্থাৎ বাস্তবে দাম দাঁড়াত প্রায় ৪৭ ডলার। এখন উৎপাদন বেড়ে ১৫ লাখ ব্যারেল প্রতিদিন, আর বিক্রি হচ্ছে ১১০ ডলারে (এবং তা আরও বাড়ছে), প্রধানত চীনের কাছে, সর্বোচ্চ ৪ ডলার ডিসকাউন্টে।
এতে পেট্রোকেমিক্যাল বিক্রির হিসাবই ধরা হয়নি—যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং নতুন নতুন ক্রেতা যুক্ত হচ্ছে। সব মিলিয়ে, লেনদেন চলছে বিকল্প পদ্ধতিতে। আর এখানেই একটি বিস্ময়কর বাস্তবতা সামনে আসে: কার্যত এটি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সমতুল্য এক বাস্তব অবস্থা।
এবার যুদ্ধের “Holy Grail”—হরমুজ প্রণালী।
এটি কার্যত খোলা, কিন্তু সেখানে রয়েছে আইআরজিসি নিয়ন্ত্রিত একটি টোল বুথ। আর সেই টোল বুথের আছে এক বিশেষ ক্ষমতা—কারা প্রবেশ করবে, তার ওপর ভেটো। যেন এক অভিজাত প্রাইভেট ক্লাবে প্রবেশের অনুমতি।
আইআরজিসির ছাড়পত্র পেতে একটি তেলবাহী জাহাজকে দিতে হয় টোল—প্রতি জাহাজে ২০ লাখ ডলার। প্রক্রিয়াটি এমন: প্রথমে আইআরজিসি-সংযুক্ত কোনো ব্রোকারের সাথে যোগাযোগ করতে হয়। সেই ব্রোকার আইআরজিসির কাছে জাহাজের মালিকানা, পতাকা, কার্গোর বিবরণ, গন্তব্য, ক্রু তালিকা এবং AIS ট্রান্সপন্ডারের তথ্য পাঠায়।
এরপর আইআরজিসি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করে। আপনি যদি মার্কিন সংযোগহীন হন, ইসরাইল-সম্পর্কিত কোনো পণ্য পরিবহন না করেন এবং আপনার দেশের পতাকা যদি “আগ্রাসী রাষ্ট্রের” তালিকায় না থাকে—তাহলে আপনি প্রবেশের অনুমতি পাবেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো এই ছাড়পত্র পায়নি।
এরপর দিতে হয় টোল—নগদে, যেকোনো মুদ্রায়। তবে সবচেয়ে পছন্দের মাধ্যম ইউয়ান। অথবা ক্রিপ্টোকারেন্সি।
এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। আইআরজিসি ব্যবহার করছে একাধিক ঠিকানা, অন্য নেটওয়ার্কে যাওয়ার জন্য ক্রস-চেইন ব্রিজ, মার্কিন প্রভাবের বহু বাইরে থাকা বিচারব্যবস্থায় ওভার-দ্য-কাউন্টার ডেস্ক এবং নানা ধরনের ইউয়ান-নির্ভর নিষ্পত্তি চ্যানেলের সঙ্গে সমন্বিত কাঠামো।
উপরের সবকিছ আপাতত চীন, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইরাক, বাংলাদেশ ও রাশিয়া থেকে আসা ট্যাংকারগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিছু কিছু দেশকে পুরো টোল দিতে হয় না। কেউ কেউ ছাড় পায়—সরকারে-সরকারে সমঝোতার ভিত্তিতে (যেমন শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড, যাদের “বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে)। আর কেউ কেউ কিছুই দেয় না।
সুতরাং স্বাগতম এমন এক সদস্য-ক্লাবে, যেখানে প্রবেশমূল্য প্রধানত পেট্রোইউয়ানে পরিশোধ করতে হয়। ইরানের মাত্র একটি পদক্ষেপ সেই কাজটি করে ফেলেছে, যা অন্তহীন বৈশ্বিক সম্মেলনগুলোও করতে পারেনি: একটি বিকল্প লেনদেন-নিষ্পত্তি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা—যুদ্ধের আগুনের মধ্যে, চরম চাপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এবং পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সংকীর্ণ পথের ওপর সেটি প্রয়োগ করে।
পেট্রোইউয়ানে পরিশোধিত প্রতিটি টোল এক আঘাতে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে পেট্রোডলার, সুইফট এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে। ইরানি পার্লামেন্ট এমন আইন পাস করতে যাচ্ছে, যা এই টোল বুথকে “নিরাপত্তা ক্ষতিপূরণ” হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে। কেউই এটা এত দ্রুত আসতে দেখেনি: বৈধীকৃত চোকপয়েন্ট-মনিটাইজেশন। একটি গুলিও না ছুড়ে। ডি-ডলারাইজড বাণিজ্য আসলে কিসের নাম—এটাই তার বাস্তব রূপ।
তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই যে বিশৃঙ্খলা ও লুণ্ঠনের সাম্রাজ্য সম্পূর্ণ উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। চোখের পলকে, মাত্র তিন সপ্তাহে, পেট্রোইউয়ান কার্যত বেসরকারিকৃত পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌ-সংযোগ করিডোরের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। ফলে সেন্টকম এই টোল বুথ ধ্বংস করতে টার্মিনেটরসুলভ সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপাবে—উপকূলজুড়ে আইআরজিসি স্থাপনায় বোমাবর্ষণ থেকে শুরু করে মিত্র ট্যাংকারগুলোর জন্য নৌ-এস্কর্ট গঠন, এমনকি টোল বুথ-সংযুক্ত ব্রোকারদের ওপর সুনামির মতো নিষেধাজ্ঞা চাপানো—সবই চেষ্টা করা হবে।
কিন্তু সেন্টকম যা বোমা মেরে ধ্বংস করতে পারবে না, তা হলো কার্যকর অবস্থায় প্রতিষ্ঠিত পেট্রোইউয়ানের নজির। সমগ্র গ্লোবাল সাউথ তাকিয়ে আছে, হিসাব কষছে। এই উন্মত্ত যুদ্ধ আসলে এক নতুন পেমেন্ট অবকাঠামোকে দৃশ্যমান হতে সাহায্য করছে। যুদ্ধের আর্থিক মাত্রা ক্ষেপণাস্ত্র ভেদক্ষমতার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
জিসিসি-র জন্য কী অপেক্ষা করছে
কাতার বারবার—অগণিতবার—ট্রাম্প ২.০-কে সতর্ক করেছিল: ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানলে দোহারের নিজস্ব জ্বালানি অবকাঠামোও ধ্বংস হয়ে যাবে। ঠিক সেটাই ঘটেছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী আল-কাবি প্রকাশ করেছেন, তিনি প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট, এমনকি ExxonMobil এবং ConocoPhillips-এর শীর্ষ নির্বাহীদের এই সতর্কবার্তা জানিয়ে আসছিলেন।
কোনো ফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত কাতার হারিয়েছে তার এলএনজি সক্ষমতার ১৭%—প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি এবং পুরো ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধার করতে লাগতে পারে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময়। আল-কাবির ভাষায়, তেলের দাম ১৫০ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে এবং এই যুদ্ধ “বিশ্ব অর্থনীতিগুলোকে ধ্বংস করে দিতে পারে।”
পরিস্থিতি এক ধরনের অযৌক্তিকতার সীমায় পৌঁছে যায়, যখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে ইরানের সাউথ পার্সে আঘাত হানার মাধ্যমে কোনো কৌশলগত সুবিধাই অর্জিত হয়নি—বরং উল্টো ফল হয়েছে। পাল্টা আঘাত গিয়ে পড়েছে পারস্য উপসাগরের জ্বালানি খাতে। অথচ এই বিকৃত বাস্তবতাই যেন এখন শাসন করছে। শেষ পর্যন্ত লাভবান হলো কারা? মার্কিন গ্যাস কোম্পানিগুলো।
ইরান এক বড় বাজি ধরেছে—এবং তা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। তাদের হিসাব, উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো শেষ পর্যন্ত বাস্তবতার অঙ্ক কষবে। যেন তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে: যদি তোমরা আমাদের সাথে ব্যবসা করতে শেখো, আমরা তোমাদের নিজেদের ব্যবসাও চালিয়ে যেতে দেব।
বর্তমান বাস্তবতায় একটি বিষয়ই নিশ্চিত: জিসিসি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সম্ভাব্য ভাঙনের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে যাচ্ছে। নিজেদের টিকে থাকার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে অন্তত ৫ ট্রিলিয়ন ডলার তুলে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এবং সেই পদক্ষেপই বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।
পেট্রো-গোল্ডের দীর্ঘ ও প্যাঁচানো পথ
সবকিছু একত্রে বিচার করলে চিত্রটি পরিষ্কার হয়ে ওঠে: পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্সে আঘাত, আর হরমুজ প্রণালীতে টোল বুথ প্রতিষ্ঠার পর—সমগ্র বাণিজ্যিক পরিসরে ইউয়ান-স্বর্ণ ভিত্তিক নিষ্পত্তি ব্যবস্থাই এখন রাশিয়া-চীন কৌশলগত জোটকে এমন এক প্রাধান্য এনে দিয়েছে, যা মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও কল্পনার অতীত ছিল।
এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব এখন কার্যত একটি নতুন, উদীয়মান বৈশ্বিক লেনদেন কাঠামোকে স্থায়ী রূপ দিচ্ছে—যেখানে পেট্রোইউয়ানে হওয়া বাণিজ্য সরাসরি বাস্তব স্বর্ণে রূপান্তরিত হচ্ছে।
রাশিয়া, যা তার মিত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবমুক্ত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস বিক্রি করে যাচ্ছে, সেখানে চীন—বিশ্বের শীর্ষ রিফাইনার—রুশ জ্বালানি কিনছে, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বাইরে থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অংশীদারদেরও সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করছে।
রাশিয়া ইউয়ানে প্রাপ্ত অর্থকে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জে বাস্তব স্বর্ণে রূপান্তর করছে। ইরান হরমুজে ইউয়ান জমা করছে—যা স্বর্ণে রূপান্তরযোগ্য তেল চুক্তিগুলোকে আরও শক্তিশালী করছে। আর চীন বিদেশে স্বর্ণ ভল্ট ও পরিবহন করিডোর গড়ে তুলছে। নতুন প্রিমাকভ ত্রিভুজ—রাশিয়া, ইরান ও চীন (RIC)—এখন বাস্তব জ্বালানি ও স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করছে।
সুতরাং, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিক্ষা এখানেই: রাশিয়া ও চীন সেই “Holy Grail”-এ পৌঁছে গেছে—জ্বালানি আধিপত্য এবং স্বর্ণ-সমর্থিত ইউয়ান ভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থা, যা পেট্রোডলারকে কার্যত বাইপাস করে দিয়েছে, যেন তা ইতিহাসের অতলে হারিয়ে যাওয়ার পথে।
মনে হচ্ছে যেন পারস্যরা নতুন করে ব্যাখ্যা করেছে Sun Tzu, Carl von Clausewitz এবং Mikhail Kutuzov-এর দর্শন—এক সম্পূর্ণ নতুন হাইব্রিড কৌশলে। আর অতিরিক্ত প্রাপ্তি হিসেবে, তারা মাত্র তিন সপ্তাহেই এমন কিছু অর্জন করেছে, যা বহু বছরের সম্মেলন করেও সম্ভব হয়নি।
পেট্রোডলার বিদায়ের পথে। বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই কার্যকর। আর গ্লোবাল সাউথ বাস্তব সময়ে প্রত্যক্ষ করছে—কিভাবে অন্তহীন বোমাবর্ষণের সাম্রাজ্যকে থামিয়ে দেওয়া যায় একটি বিকেন্দ্রীকৃত ক্ষয়যুদ্ধের মাধ্যমে, যা পরিচালিত হচ্ছে এমন এক সার্বভৌম রাষ্ট্র দ্বারা, যার প্রতিরক্ষা বাজেট সেই সাম্রাজ্যের মাত্র এক-পঞ্চাশ ভাগ।
বহুমেরু বিশ্ব কনফারেন্স রুমে বসে স্যুট পরা মানুষের বক্তৃতা পড়ে জন্ম নেবে না। বহুমেরু বিশ্ব জন্ম নেবে যুদ্ধক্ষেত্রে—আগুনের মধ্যে, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে, বাস্তব শক্তির সংঘর্ষে।
লেখকঃ পেপে এস্কোবার
Pepe Escobar ব্রাজিলীয় সাংবাদিক, ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক লেখক, যিনি মূলত ইউরেশিয়া, জ্বালানি রাজনীতি, এবং বৈশ্বিক শক্তির পুনর্বিন্যাস নিয়ে তাঁর গভীর ও সমালোচনামূলক লেখার জন্য পরিচিত।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাজ করেছেন, বিশেষ করে Asia Times-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তিনি RT এবং অন্যান্য বিকল্প ভূরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত লেখালেখি ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করেন।

