সিরাজুর রহমান
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বিবিসি বাংলা’র সাংবাদিক
একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানের ওপর যে বর্বর সামরিক হামলা হয়, তার খবর বাইরে আসতে সময় লেগেছিল। আগের কিছু দিন এক দিকে শেখ মুজিবুর রহমানের ঢাকা পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, সংঘর্ষ হচ্ছে এখনো—সেখানে; অন্য দিকে আগের বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা বিজয়ী শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে ২৫ মার্চও আলোচনা চলছিল।
পিপিপি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর মুখপাত্র গোলাম মোস্তফা খার বিকেলে ৮টায় তার নেতার চূড়ান্ত জবাব দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। পরে সে জবাব রাত ৮টা পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়। মুজিবের একান্ত সচিব জমির উদ্দিন আহমেদ রাত ৮টায় কন্টিনেন্টাল হোটেলে গিয়ে গোলাম মোস্তফা খারকে সুধীরদের কাছে ডেকে নিয়ে যান, বলেন, চিড়িয়া উড়ে গেছে, অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে গেছেন।
ঢাকায় তখন টানটান উত্তেজনা, জ্বর নাটক! দুই ডজনেরও বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক উপস্থিত সেখানে। কিন্তু সামরিক অভিযান শুরুর আগেই পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাদের সবাইকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে প্রায় বন্দী করে রাখে। পরদিন তাদের বহিষ্কার করা হলেও সে রাতের অমানবিক বর্বরতার বিশেষ কিছু তারা দেখেননি। ভারতে গিয়ে যে বিবরণ তারা পাঠিয়েছিলেন তাতে বিস্তর কিছু ছিল না। একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক সাইমন ড্রিং কোনোভাবে পাকিস্তানিদের চোখ এড়িয়ে হোটেলেই লুকিয়ে ছিলেন। তার বিস্তারিত ও মর্মন্তুদ বিবরণ লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফে প্রকাশিত হয় দিন দুই পর।
কিন্তু রেডিও পাকিস্তান ঘনঘন সরকারি ফরমান প্রচার করছিল। তাতে বলা হচ্ছিল, দুষ্কৃতিকারীদের দমনের জন্য সেনাবাহিনী কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে, পূর্ব পাকিস্তানে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নিষিদ্ধ করা হয়েছে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানে সংবাদ পাঠানো, বিবিসি ও অন্যান্য সংস্থার শোনা আইনত দণ্ডনীয় করা হয়েছে। এসব থেকে বিবিসির বিশ্লেষকদের বুঝতে বাকি ছিল না যে, ভয়াবহ কিছু ঘটছে পূর্ব পাকিস্তানে।
ছাব্বিশ তারিখ বিকেলে বিবিসির বিদেশি সংবাদ বিভাগের সদর দপ্তর বুশ হাউসে (দুর্ভাগ্যজনক বেশি ভাগ অনুবাদ বিভাগ এখন বুশ হাউস ছেড়ে গেছে, বাকিরাও শিগগিরই সরে যাবে, বিবিসি বুশ হাউসকে সম্পূর্ণ ছেড়ে দিতে যাচ্ছে) জরুরি এক সম্পাদকীয় বৈঠক হয়। পূর্ব পাকিস্তানে কী ঘটছে, সে খবর কী করে পাওয়া যাবে সেটাই ছিল একমাত্র আলোচ্য বিষয়। ঊর্ধ্বতনদের কেউ কেউ বললেন, যেহেতু স্থানীয় সূত্রে খবর পাওয়া যাবে না, যেহেতু পাকিস্তানি মিলিটারি ফরমান বিবিসি কিছুতেই খবর বলে প্রচার করতে পারে না, তার চেয়ে পূর্ব পাকিস্তানের খবর প্রচার আপাতত বন্ধ রাখা সমীচীন হবে।
পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করুন। পাকিস্তানিরা প্রথম রাতের অভিযানে পূর্ব পাকিস্তানের বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব ধ্বংস করতে চেয়েছে, বহু শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন অথবা পাশের দেশে পালিয়ে গেছেন। কর্মীদের অনেককে প্রথম আঘাতেই প্রাণ দিতে হয়েছে। দেশের মানুষ রুখে দাঁড়াবে, প্রতিরোধ করবে, সেটা আগে থেকেই জানা গিয়েছিল। কিন্তু দিনের পর দিন যদি হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন চলে এবং সে খবর যদি বাইরের বিশ্ব জানতে না পারে, তাহলে প্রতিরোধ সংগ্রাম কত দিন চলবে? কত দিন মানুষ সে গোপন হত্যার শিকার হতে থাকবে?
আমি ভেতরে ভেতরে উদ্দীপ্ত ছিলাম পূর্ব পাকিস্তানের খবর প্রচার বন্ধ রাখার আশঙ্কায়। জোর প্রতিবাদ করেছিলাম সে বৈঠকে। বলেছিলাম, একটা গণহত্যা চলছে পূর্ব পাকিস্তানে, পাকিস্তানিরা সে খবর গোপন রাখতে চাইছে। বিবিসি এত বছর ধরে সোভিয়েত ইউনিয়নের নিপীড়নের সংবাদ কমিউনিস্ট সমাজের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে, বহু সূত্রে পাওয়া খবর প্রচার করেছে সোভিয়েত ইউনিয়ন সম্বন্ধে, সেই বিবিসি কি এখন পাকিস্তানি মিলিটারি টর্চারের গণহত্যার ব্যাপারে নীরব থাকবে?
অন্তরাত্মার ব্যাপার বলে একটা গণহত্যার কথা বাইরের দুনিয়াকে শোনাবে বিবিসি? একটা তুলনা দিয়েছিলাম আমি : কোনো ইংরেজ যদি নিজেদের বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করে বউ আর ছেলেমেয়েকে খুন করে, তাহলে কি পুলিশ নীরব থাকবে? ইংল্যান্ডের আইনে তার কি কোনো বিচার হবে না? ক্রোধে-আবেগে আমার দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল।
তাতে কাজ হয়েছিল। কিছুক্ষণ অবস্থা মূল্যায়নের চেষ্টা করলেন সবাই। প্রথমেই আমাকে সমর্থন দিলেন এডান চার্লটন।
তিনি কলকাতার স্টেটসম্যান পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন, কিছু দিন আগে বিবিসিতে এসেছেন ভারতবর্ষ হয়ে। একে-দুজন আরো দু-চারজন তখন মুখ খুললেন। আলোচনার তখন নতুন ধারা! প্রশ্ন ওঠে পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্ভরযোগ্য খবর কিভাবে সংগ্রহ করা যায়। সমাধানের পথও আমি প্রস্তাব করেছিলাম। পূর্ব পাকিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত পুরোটাই বন্ধ করা পাকিস্তানিদের পক্ষে সম্ভব হবে না, বহু লোক বেরিয়ে আসবেই। বিদেশী সাংবাদিকরা পূর্ব পাকিস্তানে ঢুকতে না পারলেও বাইরে থেকে কিছু কিছু খবর তারা অবশ্যই সংগ্রহ করবেন। এসব সূত্র থেকে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ অসম্ভব হবে না। আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম, বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরাদি থেকে প্রকৃত নির্যাস বের করার জন্য আমি নিজেই কলকাতা যাব, কারণ পূর্ব পাকিস্তান সম্পর্কে মোটামুটি একটা নির্ভরযোগ্য ধারণা আমার আছে।
শেষ পর্যন্ত কিছু রদবদল করে আমার প্রস্তাবই মেনে নেওয়া হলো। পূর্ব পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে আসা নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিদের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ তৈরি করা হবে, তবে এ জাতীয় প্রত্যেকটি খবরেই বলা হবে যে, যেহেতু বিবিসি সেখানে সংবাদদাতা পাঠাতে পারছে না সেহেতু অন্যান্য সূত্র থেকে আমরা খবর সংগ্রহ করেছি, কিন্তু সে খবর যাতে নির্ভরযোগ্য হয় সে জন্য যথেষ্ট যত্ন নিয়েছি আমরা। তা ছাড়া বিদেশী মিডিয়ায় পূর্ব পাকিস্তান সম্পর্কে যেসব খবর প্রকাশিত হবে, আমরা তার সংশ্লেষণ প্রচার করব।
তবে শেষ মুহূর্তে প্রচার বিভাগের ডিরেক্টর মার্ক ডড রায় দিলেন, আমার কলকাতায় বা পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্তে যাওয়া মোটেই নিরাপদ হবে না। তিনি বললেন, যেহেতু আমি তখনও পাকিস্তানি পাসপোর্টধারী সেহেতু ধরা পড়লে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী পাকিস্তানিরা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আমাকে ফাঁসিতে দিতে পারে। স্থির হলো কলকাতায় যাবেন মার্ক টালি। তিনি তখন বিবিসির বাংলা আর হিন্দি বিভাগের অনুষ্ঠান সংগঠক (প্রশাসনিক কর্মকর্তা) ছিলেন।
কিছু একজনকে উপদেষ্টা হিসেবে থেকে আমি গেলাম আরেকটি অনানুষ্ঠানিক মিটিংয়ে, বুশ হাউস থেকে বড় রাস্তা পেরিয়ে সারে স্ট্রিটে বিবিসি ক্লাবে। আগেই স্থির হয়েছিল, কয়েকজন সেখানে আমার জন্য অপেক্ষা করবেন। এরা ছিলেন উচ্চশিক্ষার্থী পূর্ব পাকিস্তানি ছাত্র এবং অন্য আরো দু-একজন। আসলে এরা খণ্ডকালীনভাবে বিবিসির বাংলা অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। তাদের কয়েকজন ছিলেন আবিদ হোসেন, রশিদুল হাসান, ওয়ালীউল্লাহ্, রুলু চৌধুরী, মাহবুব হোসেন মঞ্জু, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, খোদকার মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
সাধারণ নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে অচলাবস্থা শুরু সময় থেকেই, বিশেষ করে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের পর থেকে আমরা প্রায় প্রতিদিনই কাজের শেষে লাঞ্চ-ডিনার আড্ডায় বসতাম এবং দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণের চেষ্টা করতাম। আগের বছরের ১২ নভেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের জেরে আমি কয়েকটি রেডিও ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতনের ইতিহাস ব্রিটিশ জাতির ও গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছিলাম। [লেখকের নতুন বই এক জীবন এক ইতিহাস দ্রষ্টব্য] তার জের ধরে পূর্ব পাকিস্তান সম্পর্কিত কিছু ঘটলেই অনেক সাংবাদিক আমাকে টেলিফোন করতেন, নইলে কাছের রিজেন্ট স্ট্রিট থেকে হেঁটে বুশ হাউসে চলে আসতেন। সে দিনও (২৫ মার্চ, ১৯৭১) অনেকেই যোগাযোগ করেছিলেন।
বিবিসি ক্লাবের বৈঠকে আমরা স্থির করলাম যে পূর্ব পাকিস্তানের বঞ্চনা, দেশের বৃহত্তর অংশের গণতান্ত্রিক অধিকার অস্বীকার, ছয় দফা ইত্যাদি বিষয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের সার্বিক পটভূমি বিশ্লেষণ করে আমরা ইংরেজিতে একটি ফ্যাক্টশিট তৈরি করব এবং প্রয়োজনে পরিমার্জিত বিশ্লেষণমূলক ফিচার মাঝে মাঝেই প্রচার করা হবে। স্থির হলো, আমরা বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মতো কাজ করব; আমাদের গোষ্ঠীর সদস্যরা বিভিন্ন সূত্রে তথ্য সংগ্রহ করে স্টেনসিল ও কাগজ কিনবেন; ফ্যাক্টশিট লিখব আমি এবং উপলব্ধ তথ্যের তালিকা, রেডিও-টেলিভিশন, লন্ডনে অবস্থিত দূতাবাস, পার্লামেন্ট সদস্য, হাইকমিশনের কূটনীতিক এবং প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস চ্যান্সেলরদের কাছে সে ফ্যাক্টশিট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।
প্রায় দেড়’শ ফ্যাক্টশিট আমি লিখেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে। নানা সূত্রে সংগৃহীত কিছু দলিলও ফ্যাক্সিটি হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। বিশেষ করে বিখ্যাত “হার্ভার্ড ডকুমেন্ট” আমরাই প্রথম প্রচার করেছিলাম। আমার অনুরোধে আমার ছোট ভাইয়ের বন্ধু মিশিগান নিবাসী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শামসুল হক সে দলিল সংগ্রহ করে নিজেই নিয়ে এসেছিলেন লন্ডনে। একত্রে পৃষ্ঠার এ দলিল আমরা দুই সংস্করণে প্রচার করি। তারপরে কলকাতায় নির্বাসিত সরকার সে দলিল তাদের সংকলনের অন্তর্ভুক্ত করেছিল। শেষের দিকে অধ্যাপিকা সুরাইয়া খানম এবং ব্যবসায়ী মিজান উদ্দিনও আমাদের ফ্যাক্সিটি প্রকল্পে যোগ দেন। তখন প্রচার সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল পাঁচ হাজারে।
ছাব্বিশে তারিখে সাংবাদিকদের প্রায় সবাই কতগুলো প্রশ্নের জবাব খুঁজছিলেন। কোথায় আছেন শেখ মুজিবুর রহমান? তার অনুপস্থিতিতে দেশের নিরস্ত্র মানুষ সজ্জিত পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে তো? সদ্য পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, মুজিব পূর্ব পাকিস্তানেই গা ঢাকা দিয়ে আছেন এবং গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দীপ্ত করছেন। এমন দূরদর্শনের সাক্ষাৎকার বিবিসির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রচারিত হয়েছিল।
ফরাসি টিভিতে জিয়ার ঘোষণা
পশ্চিমা সাংবাদিকদের সন্দেহ ভঞ্জন করে ফরাসি টেলিভিশন। তারা কোনো মতে, মেজর জিয়ার বহুলানের একটা ঘোষণার রেকর্ডিং সংগ্রহ করে প্রচার করেছিলেন। এ ঘোষণায় মেজর জিয়া শেখ মুজিবুর রহমানের নামে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বিভিন্ন ফরাসি টেলিভিশন সে রেকর্ডিং পুনঃপ্রচার করে। এ রেকর্ডিংয়ের এক কপি এখনো আমার কাছে আছে। ১৯৯৭ সালের ২৬ মার্চ লন্ডনের কমনওয়েলথ ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়, তার প্রবেশ পথে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত বর্ণিল পোস্টার টাঙানো হয়েছিল। সে পোস্টারে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাক্ষরযুক্ত বলে কথিত স্বাধীনতার ঘোষণা ছাপা হয়েছিল। সবার কাছে পরিচিত একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমাকে এক পাশে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন : মুজিব তো ২৫ মার্চ রাতেই গ্রেফতার হয়েছিলেন, তাহলে ২৬ মার্চ তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা স্বাক্ষর করলেন কীভাবে?
প্রসঙ্গত উল্লেখ করতে চাই, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরের প্রাক্কালে টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রবন্ধেও জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। সে যা হোক, আমাদের মতো অনেকেই বিভিন্নভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামে শরিক হয়েছিলাম। স্বাধীন বাংলাদেশে কাছে আমাদের চাওয়ার কিছু ছিল না। জন্মভূমি স্বাধীন হবে, সে দেশের মানুষ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে আর উন্নত জীবনের জন্য কাজ করে যাবে—এই চিন্তাই ছিল আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। দেশে এবং বিদেশে বাঙালিরা সে দিন বিস্ময়কর একতা দেখাতে পেরেছিলেন। সে জন্যই বিস্ময়কর দ্রুত বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছিল, যদিও অনেক রক্তের বিনিময়ে।
প্রবাসে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আজ তারা খুবই হতাশ। স্বাধীনতার যেমন উন্মাদনা হবে বলে তারা আশা করেছিলেন সেটা হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশ আর বাঙালি জাতি আজ আগের মতো ঐক্যবদ্ধ নেই। আর এ কথা তো সর্বকালে এবং সর্বত্রই সত্য বলে বিবেচিত হয়ে এসেছে যে, একটি জাতিকে জয় করার, পরাভূত করার প্রধান ও প্রথম কৌশল সে জাতির একতা বিনষ্ট করা, তাকে বিভক্ত করে ফেলা।
লন্ডন, ২৩-০৩-২০১০

