২০২৬ সালের জুন মাসের শেষ দিনগুলো ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে খোদাই হয়ে থাকবে—যদিও বিশ্ব হয়তো সেদিকে ফিরেও তাকাবে না। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা প্রাণ নিয়ে দুটি নৌযান সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিল। যাত্রার পরপরই একটি নৌযানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দ্বিতীয়টি ৮ জুলাই আয়াবতী উপকূলে ডুবে যায়। দুটি নৌযানই এখন সমুদ্রগর্ভের কবর।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এক দশকব্যাপী দায়িত্বহীনতা ও নিষ্ক্রিয়তার আগে থেকেই অনুমানযোগ্য এবং হিসাবের মধ্যে ধরে নেওয়া পরিণতি। জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি বছরেই আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৩০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে কিংবা নিখোঁজ হয়েছে। ২০২৫ সালে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে পালানোর চেষ্টা করেছিল। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০০ জন মারা গেছে অথবা নিখোঁজ হয়েছে। এই নৌপথের ইতিহাসে সেটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর।
জাতিসংঘ যথার্থভাবেই একে শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সমুদ্রপথ হিসেবে অভিহিত করেছে। অথচ বিশ্ব কেবল তাকিয়ে থাকে, উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং শেষ পর্যন্ত কিছুই করে না।
ইতোমধ্যে ভয়াবহ জনসংখ্যাগত চাপের মধ্যে থাকা বাংলাদেশ এখন কক্সবাজারের ৩৪টি শিবিরে প্রায় ১৪ লাখ নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম শরণার্থী জনগোষ্ঠী। ২০২৬ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তার জন্য ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনাটি ৩৭ শতাংশ অর্থসংকটে রয়েছে। ২০২৫ সালের তুলনায় বাজেট ২৫০ মিলিয়ন ডলার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে—যা প্রায় ২৬ শতাংশ হ্রাস। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পাওয়া গেছে মাত্র ৩৬৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় অর্থের অর্ধেকও এখনো সংগ্রহ হয়নি।
এর পরিণতি ভয়াবহ।
টানা কয়েক সপ্তাহের প্রবল মৌসুমি বৃষ্টিতে সৃষ্ট ভূমিধ্বসে শুধু জুলাই মাসেই অন্তত ১৭ জন রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে। ৫২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল কক্সবাজারজুড়ে “ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকটের” বিষয়ে সতর্ক করেছে। এটি যেন একটি সংকটের ভেতরে জন্ম নেওয়া আরেকটি সংকট। দুই লাখ ৩৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শিশু এখনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো চরম চাপের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। গত বছর নগদ অর্থের বিনিময়ে কাজের কর্মসূচির মাধ্যমে মাত্র ২৩ শতাংশ শরণার্থী পরিবার কোনো আয় করতে পেরেছিল। ৩৫ শতাংশ পরিবারের কোনো ধরনের আয়ের উৎসই ছিল না। তারা সম্পূর্ণভাবে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
এটি মানবিকতা নয়। এটি নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত একটি জনগোষ্ঠীকে অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার ব্যবস্থা।
রোহিঙ্গারা ১৯৪৮ সালের আগে মিয়ানমারে বসবাসের প্রমাণ দেখাতে না পারলে দেশটির নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পায় না। অথচ যাদের পরিকল্পিতভাবে নথিপত্র থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তাদের জন্য এমন প্রমাণ হাজির করা কার্যত অসম্ভব। মিয়ানমারের ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন রোহিঙ্গাদের দেশটির সরকারিভাবে স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠীর তালিকা থেকে বাদ দেয়। এর মধ্য দিয়ে তাদের রাষ্ট্রহীন এবং নথিহীন জনগোষ্ঠীতে পরিণত করা হয়।
তারা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেতে পারে না। স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারে না। বৈধভাবে কাজ করতে পারে না। তারা একটি স্থায়ী আইনি শূন্যতার মধ্যে বসবাস করছে—জৈবিকভাবে জীবিত, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে মৃত।
এই সংকট মোকাবিলায় যে আঞ্চলিক জোটের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা, সেই আসিয়ান নিজের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার’ নীতির কারণে কার্যত অচল হয়ে আছে। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শেষ পর্যন্ত ব্যাংককে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ২০২১ সালের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ। তারা আবারও পাঁচ দফা ঐকমত্যের প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। কিন্তু তারা কোনো কার্যকর দাবি জানায়নি। জবাবদিহির কোনো ব্যবস্থাও প্রস্তাব করেনি।
অথচ এর মাত্র কয়েক দিন আগে মিয়ানমারের পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে আসিয়ানের পাঁচ দফা ঐকমত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারা এই ঐকমত্যকে অপ্রাসঙ্গিক এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ বলে ঘোষণা করেছিল।
আসিয়ানের জবাব কী ছিল?
আরও সংলাপ।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা আসিয়ানের এই ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করেছেন। মালয়েশিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন আবদুল্লাহ সামরিক জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, জান্তা নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট আসিয়ানের নিজস্ব ঐকমত্যই প্রত্যাখ্যান করেছে। তা সত্ত্বেও আসিয়ান অত্যন্ত হিসাবি উপায়ে মিয়ানমারের সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপনের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। একটি গণহত্যাকারী শাসনকে বৈধ অংশীদারের মতো আচরণ করা হচ্ছে।
চীন ও ভারত নিজেদের কৌশলগত করিডর রক্ষায় ব্যস্ত। মিয়ানমারে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড বিনিয়োগ—বিশেষ করে চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং কিয়াউকফিউ বন্দর—সামরিক জান্তার ওপর বেইজিংকে বিপুল প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু সেই প্রভাব মানবাধিকার রক্ষায় নয়, অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভারতের নীরবতাও সমানভাবে নিন্দনীয়।
বৃহৎ শক্তিগুলো ১৪ লাখ মানুষের জীবনকে ভূরাজনীতির একটি সামান্য পাদটীকায় পরিণত করেছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার দায়ের করা গণহত্যা মামলার মূল শুনানি গ্রহণ করে। বেঁচে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী অসাধারণ সাহসের সঙ্গে সাক্ষ্য দিয়েছেন। চলতি বছরের শেষ দিকে রায় ঘোষণা হতে পারে।
কিন্তু আদালত যদি গণহত্যার বিষয়টি নিশ্চিতও করে—যা করার পক্ষে বিপুল প্রমাণ রয়েছে—তারপর কী হবে?
২০২০ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত যে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল, মিয়ানমার প্রকাশ্যেই তা অমান্য করেছে। বিশেষ করে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর গুরুতর নির্যাতন ও নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে। আদালত কোনো ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। কিন্তু সেই গণহত্যা থামাতে পারে না।
ফর্টিফাই রাইটস সতর্ক করেছে, “আন্তর্জাতিক বিচার আদালত যদি রোহিঙ্গাদের ব্যর্থ করে, তবে আন্তর্জাতিক আইন অপূরণীয়ভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।”
প্রমাণের কোনো ঘাটতি নেই। এসব নৃশংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। বরং এগুলো ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশনে নিষিদ্ধ ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিত গণহত্যামূলক সহিংসতার অংশ।
তারপরও বিশ্ব এই গণহত্যা বন্ধ করার পরিবর্তে সেটিকে সামলে রাখার পথ বেছে নিয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে আলোচনাধীন ‘গণহত্যা নির্ধারণ বিল’ একটি কার্যকর মডেল হতে পারে। এই আইনের মাধ্যমে আদালত কোনো ঘটনাকে প্রাথমিকভাবে গণহত্যা হিসেবে নির্ধারণ করার আনুষ্ঠানিক আইনি পথ পাবে, যা সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে।
লর্ড অল্টনের কথাগুলো যথার্থ:
“সব অপরাধের ঊর্ধ্বে যে অপরাধ, অপরাধের শিখর, মানবতার বিরুদ্ধে গণহত্যার মতো অপরাধ—তার দায়ে অপরাধীদের পার পেয়ে যেতে আমরা আর দিতে পারি না। এই দুষ্টচক্র ভাঙার সময় এসেছে।”
গণহত্যা প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে গণহত্যা কনভেনশনের অধীনে প্রতিটি দেশেরই বিদ্যমান বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই দায়িত্ব ঐচ্ছিক নয়। ভূরাজনৈতিক সুবিধা-অসুবিধার ওপর এটি নির্ভরশীল নয়। এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।
২০২৬ সালের এই সামুদ্রিক ট্র্যাজেডি—সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া ৫০০ প্রাণ—কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। এটি মানুষের তৈরি বিপর্যয়। এমন এক বিশ্বব্যবস্থার প্রত্যক্ষ ফল, যে ব্যবস্থা সংকটের সমাধান না করে সেটিকে সামলে রাখার কৌশল আয়ত্ত করেছে।
রোহিঙ্গারা কেবল আন্দামান সাগরে ডুবে যাচ্ছে না। তারা ডুবে যাচ্ছে বিশ্বের ঘোষিত মূল্যবোধ এবং বাস্তব জীবনে অনুসৃত নির্মম উদাসীনতার মধ্যকার অতল গহ্বরে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্টভাবে বলেছেন, “রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা বহন করা শুধু বাংলাদেশের দায়িত্ব নয়; এই দায়িত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও ভাগ করে নিতে হবে।”
বাংলাদেশ “শরণার্থীবিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন, বিশেষ করে এর মৌলিক নীতি—যৌথ দায়িত্ব এবং বোঝা ভাগাভাগির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।”
কিন্তু প্রশংসা রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেনি। প্রশংসা প্রয়োজনীয় বোঝা ভাগাভাগির ব্যবস্থা নিশ্চিত করেনি। ফলে সংকটের কাঠামোও বদলায়নি।
কী করতে হবে, তা পরিষ্কার।
আসিয়ানকে রোহিঙ্গা সংকটের জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে, যার এখতিয়ার ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার’ নীতির ঊর্ধ্বে থাকবে। চীনকে শুধু বক্তব্য দেওয়ার অবস্থান থেকে কার্যকর পদক্ষেপের দিকে নিয়ে যেতে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। রোহিঙ্গাদের প্রকৃত প্রত্যাবাসন এবং অপরাধীদের জবাবদিহির ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতির সঙ্গে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড বিনিয়োগকে শর্তযুক্ত করতে হবে।
জি-২০ দেশগুলোর বাধ্যতামূলক অবদানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রতিবছরের ১৫৫ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন ঘাটতি পূরণ করতে হবে।
আসিয়ানের প্রতিটি সদস্যরাষ্ট্র, ওআইসির প্রতিটি সদস্য এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিটি স্থায়ী সদস্যকে যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবিত আইনের মতো গণহত্যা নির্ধারণ আইন গ্রহণ করতে হবে।
কিন্তু এগুলো একটি নৈতিক সংকটের কারিগরি সমাধানমাত্র।
আরও গভীর সত্য হলো, রোহিঙ্গারা এখন জীবন্ত প্রমাণে পরিণত হয়েছে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গণহত্যার নাম দিতে পারে, গণহত্যার তথ্য-প্রমাণ নথিভুক্ত করতে পারে, আদালতে গণহত্যার বিচার চাইতে পারে—তারপরও প্রকাশ্য দিবালোকে সেই গণহত্যা চলতে দিতে পারে।
আমরা এমন একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থা তৈরি করেছি, যেখানে সমুদ্রে মানুষের মৃত্যু আগে থেকেই হিসাবের মধ্যে ধরা থাকে; যেখানে ন্যায়বিচার বাস্তব নয়, কেবল প্রক্রিয়াগত; যেখানে শরণার্থী শিবিরগুলো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎহীন মানুষের জৈবিকভাবে বেঁচে থাকার স্থায়ী অঞ্চলে রূপান্তরিত হয়েছে।
বিশ্ব গণহত্যা সামলাতে শিখেছে।
প্রশ্ন হলো, বিশ্ব কি এখনো গণহত্যা থামাতে শিখতে পারবে?
রোহিঙ্গারা তাকিয়ে আছে।
ইতিহাস তাকিয়ে আছে।
আর আন্দামান সাগর একের পর এক মৃতদেহ গ্রাস করে চলেছে।
মূল লেখকঃ কুর্নিয়াওয়ান আরিফ মাসপুল
কুর্নিয়াওয়ান আরিফ মাসপুল একজন গবেষক ও আন্তঃবিষয়ক লেখক। তাঁর গবেষণা ও লেখালেখির প্রধান ক্ষেত্র ইসলামি কূটনীতি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক চিন্তাধারা।