সোস্যাল ডেমোক্রেসি – প্রেক্ষিতঃ বাংলাদেশ

দেশসোস্যাল ডেমোক্রেসি – প্রেক্ষিতঃ বাংলাদেশ

ফ্যাসিস্ট হাসিনা বাংলাদেশের অর্থনীতি, প্রশাসন, রাজনীতি, সমাজ ব্যবস্থাসহ – গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থাটিকে এমন এক গিরিখাদে ফেলে দিয়ে গেছে সেখান থেকে উত্তরণ খুবই কঠিন। জুলাই বিপ্লবে ফলশ্রুতিতে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন হয়েছে, কিন্তু সামনে রয়েছে দেশ পুনঃর্গঠনের বিরাট চ্যালেঞ্জ।

কেমন হবে আগামীর বাংলাদেশ? কেমন হবে আগামীর বাংলাদেশের রাজনীতি যা স্থানীয় এবং বৈশ্বয়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে একটি সত্যিকারের জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করবে?

পিনাকী দা তার একটি পোস্টে ফরাসি বিপ্লবোত্তর ফ্রান্সের কিছু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সংক্ষিপ্ত পয়েন্ট তুলে ধরেছেন। পিনাকী দা’র পোস্টের সমালোচনা করে David Bergman পোস্ট দিয়েছেন কিছুক্ষণ পরেই। জুলাই বিপ্লবের পর থেকেই আগামীর বাংলাদেশের রাজনীতি এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তা করছিলাম। লেখবো লেখবো করে কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। উনাদের দুটি পোস্ট দেখে লেখায় হাত দিলাম। আমি আমার সীমিত জ্ঞান এবং আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের আলোকে একটি ফ্রেমওয়ার্ক দাঁড় করানোর প্রয়াস চালিয়েছি মাত্র। সমাজবিজ্ঞানী, Political philosopher ও অর্থনীতিবিদগণ উনাদের বিশাল জ্ঞান দিয়ে বিস্তৃত রূপরেখা প্রণয়ন করবেন বলে আশা রাখি।

আমি কিছুটা একাডেমিক এবং কিছুটা সাধারণ আলোচনার মতো করে উপরোল্লিখিত বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করেছি। দীর্ঘ আলোচনা এবং আমার অযোগ্যতা ও স্বল্পজ্ঞানের জন্যে বিরক্তির উদ্রেক হলেও প্রসঙ্গের গুরুত্ব বিবেচনায় পাঠকগণ ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, সে প্রত্যাশায়।

আধুনিক প্রায় সকল রাষ্ট্র ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র / Welfare State প্রতিষ্ঠা করা। কমিউনিজম রাষ্ট্র, সমাজ এবং জনগণকে একভাবে সংজ্ঞায়িত করে, পুঁজিবাদ সংজ্ঞায়িত করে ভিন্নভাবে। এই দুই মতবাদই নিজদের মতো করে তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্র ও অর্থনীতিক ব্যবস্থার প্রস্তাব করে। কার্ল মার্ক্স এবং ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস কে কমিউনিজমের মূল প্রবক্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  তাদের সময় কমিউনিজম এবং সোস্যালিজম কে প্রায় সমার্থক হিসেবে বিবেচনার করা হতো। কমিউনিস্ট মতবাদের রুপান্তরের মধ্য দিয়েই সোস্যালিজম উৎপত্তি, আজকের চীন হলো যার উদাহারণ।

আসুন আমরা খুব সংক্ষেপে কমিউনিজম, সোস্যালিজম এবং ক্যাপিটালিজম সম্পর্কে আমাদের ধারণাগুলোকে একটু স্মরণ করিঃ

কমিউনিজমঃ

কমিউনিজম বা সাম্যবাদ হলো একটি আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ। এই মতবাদ অনুযায়ী সমাজে শ্রেণীভেদ থাকবে না এবং উৎপাদনের উপায়গুলো সমাজের সকলের যৌথ মালিকানায় থাকবে। কার্ল মার্কস এবং ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস এই মতবাদের প্রবক্তা ছিলেন। তারা মনে করতেন যে পুঁজিবাদী সমাজে শ্রমিকদের শোষণ করা হয় এবং এর ফলে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি হয়। তারা একটি শ্রেণীহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।

কমিউনিজমের মূল ধারণাগুলো হলোঃ

  • শ্রেণীহীন সমাজঃ কমিউনিস্ট সমাজে কোন শ্রেণীভেদ থাকবে না। সবাই সমান বলে গণ্য হবে এবং সমান সুযোগ পাবে।
  • যৌথ মালিকানাঃ উৎপাদনের উপায়গুলো (যেমন জমি, কারখানা) ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকবে না, বরং সমাজের সকলের যৌথ মালিকানায় থাকবে।
  • রাষ্ট্রের বিলুপ্তিঃ কমিউনিস্ট সমাজে রাষ্ট্রের প্রয়োজন হবে না, কারণ সমাজে কোন শ্রেণীভেদ বা শোষণ থাকবে না।
  • প্রয়োজন অনুযায়ী বন্টনঃ প্রত্যেক ব্যক্তি তার প্রয়োজন অনুযায়ী জিনিসপত্র পাবে।

তবে, বাস্তবে কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলোতে এই ধারণাগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। অনেক কমিউনিস্ট দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছ এবং জনগণের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে। এছাড়াও, কমিউনিস্ট অর্থনীতি প্রায়ই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, এবং অনেক দেশে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব দেখা গেছে, আজকের উত্তর কোরিয়া তার উদাহারণ।

সোস্যালিজমঃ

সমাজতন্ত্র বা সোস্যালিজম হলো একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় সমাজের সম্পদ এবং উৎপাদনের উপায়গুলোর (সম্পদ, কারখানা ইত্যাদি) উপর সামাজিক মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ থাকে। এর মূল লক্ষ্য হলো সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা এবং বৈষম্য হ্রাস করা। তবে সমাজতন্ত্র ব্যক্তিগত সম্পদের ধারণা পুরোপুরি খারিজ করে দেয় না, যেমনটি কমিউনিজমে করা হয়ে থাকে।

সমাজতন্ত্রের মূল ধারণা:

  • সামাজিক মালিকানাঃ সমাজতন্ত্রে উৎপাদনের উপায়গুলো (যেমন – জমি, কারখানা) ব্যক্তিগত মালিকানায় না থেকে সমাজের সম্মিলিত মালিকানায় থাকে। এর মাধ্যমে সমাজের সকল সদস্যের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়।
  • বৈষম্য হ্রাসঃ সমাজতন্ত্রে সম্পদ এবং সুযোগের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করা হয়।
  • সামাজিক কল্যাণঃ সমাজতন্ত্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের জন্য সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ক্যাপিটালিজমঃ

ক্যাপিটালিজম বা পুঁজিবাদ হল একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের উপায় (যেমন জমি, কারখানা, যন্ত্রপাতি) ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে এবং মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। এই ব্যবস্থায় বাজার অর্থনীতি প্রধান ভূমিকা পালন করে, যেখানে দাম এবং উৎপাদন মূলত চাহিদা ও জোগানের উপর নির্ভর করে।

পুঁজিবাদের কিছু মূল বৈশিষ্ট্য হলোঃ

  • ব্যক্তিগত মালিকানাঃ উৎপাদনের উপায়গুলোর ব্যক্তিগত মালিকানা এখানে স্বীকৃত। ব্যক্তি নিজের সম্পত্তি ব্যবহার করে উৎপাদন এবং মুনাফা অর্জন করতে পারে।
  • মুনাফা অর্জনঃ পুঁজিবাদের মূল উদ্দেশ্য হল মুনাফা অর্জন করা। ব্যবসায়ীরা তাদের বিনিয়োগ থেকে বেশি লাভ পেতে চেষ্টা করে।
  • বাজার অর্থনীতিঃ এখানে বাজার অর্থনীতি প্রধান ভূমিকা পালন করে। দাম এবং উৎপাদনের পরিমাণ মূলত চাহিদা ও জোগানের উপর নির্ভর করে।
  • প্রতিযোগিতাঃ বাজারে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকে। এই প্রতিযোগিতা সাধারণত উন্নত পণ্য এবং কম দামের দিকে চালিত করে।
  • সীমিত সরকারি হস্তক্ষেপঃ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় সরকার সাধারণত বাজারের উপর কম হস্তক্ষেপ করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে সরকার বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

কেনো এই তিন ব্যবস্থাকেই পরিমার্জন করে আরেকটি রাষ্ট্র ও অর্থনীতিক ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্যে প্রয়োজনঃ

কমিউনিজম বা সাম্যবাদ ব্যর্থ হয়েছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আদতে শ্রেণী বা রাষ্ট্রহীন ইউটোপিয়ান স্বর্গরাজ্য দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং বাস্তবে কর্তৃত্ববাদী এবং একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব। তবে কমিউনিজম বা সাম্যবাদের বদলে সমাজবাদ হিসেবে মার্ক্স এবং এঙ্গেলসের মতবাদের রূপান্তরের ফলে গণচীন অর্থনীতিক সফলতা লাভ করেছে। কাজেই বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থার জন্যে মার্ক্সবাদ কে পুরোপুরি অস্বীকার করার কোনো উপায়  নেই। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসছে।

পুঁজিবাদকে উন্নত বিশ্বে যতই সামাদর করা হোক না কেনো পুঁজিবাদ এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির কুফলও কিন্তু তারা ভোগ করছে। এর প্রকৃষ্ট উদাহারণ হলো যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের আয়ের বৈষম্য প্রকট, জনসংখ্যার অতিক্ষুদ্র একটি অংশ অধিকাংশ সম্পদের মালিক। ব্যবসা-বাণিজ্যে তাদের একচেটিয়া প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের কারণে মাঝারি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টিকে থাকাই মুশকিল। যারা টিকে আছে, তারা বৃহৎ কারখানা গুলো কে স্বল্পমূল্যে সেবা দিয়েই ঠিকে আছে।

মুনাফা লোভী কোম্পানীগুলো শ্রমের শোষণ করছে, শ্রমিকদের কে নিন্ম মুজরী দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্যে কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করছে। সামান্তপ্রভু এবং ভূমিদাস (Feudal Lord & Serf) সম্পর্কের নতুনরূপ হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেছে নিয়োগকর্তা ও কর্মচারী (Employer & Employee).

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো পণ্যে পরিণত হয়েছে। দরিদ্রদের জন্যে চিকিৎসা সহায়তা আছে তবে মধ্যবিত্তের জন্যে রোগ হলো রীতিমতো আতংকের ব্যাপার। এক সপ্তাহের হাসপাতালের বিল সারা বছরের উপার্জনের সমান।

 এখন প্রশ্ন আসতে পারে কানাডা, নরডিক, পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো এবং অষ্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডও তো পুঁজিবাদী রাষ্ট্র সেখানে তো যুক্তরাষ্ট্রের মতো দরিদ্র এবং মধ্যবিত্তরা নিষ্পেসিত হচ্ছে না।

হ্যাঁ, আমি আসলে সে দিকটিই আলোচনা করতে চাচ্ছি। এইদেশ গুলো মূলতঃ পুরোপুরি পুঁজিবাদী রাষ্ট্র নয়। চিকিৎসা, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষার মতো খাতগুলোতে এই দেশগুলো অনেকাংশেই সমাজবাদী নীতি অনুসরণ করে। একেক দেশ হতো একেক মাত্রায় এই নীতির প্রয়োগ করে তবু সেবার খাতগুলোতে দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। বিনামূল্যে বা নামেমাত্র মূল্যে সব নাগরিক এই সুবিধা পেয়ে থাকে।

কী সেই রাষ্ট্র এবং অর্থব্যবস্থা?

Social Democracy বাংলায় এটাকে সামাজিক গণতন্ত্র বলা যেতে পারে। যেহেতু আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো সোস্যাল ডেমোক্রেসি তাই এটি নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো।

সামাজিক গণতান্ত্রিক অর্থনৈতিক মতবাদ সামাজিক ন্যায়বিচার, সমতা এবং কল্যাণের নীতিগুলোর সাথে পুঁজিবাদের দক্ষতা এবং গতিশীলতার ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়। এটি বাজার ভিত্তিক অর্থনীতির মধ্যে কাজ করে তবে পুঁজিবাদের অন্তর্নিহিত বৈষম্য এবং ত্রুটিগুলো প্রশমিত করতে সরকারী হস্তক্ষেপের সমর্থন করে।

আসুন এই মতবাদের মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর দিকে আলোকপাত করিঃ

মিশ্র অর্থনীতিঃ সোস্যাল ডেমোক্র্যাটরা একটি মিশ্র অর্থনীতির কথা বলে যেখানে বেসরকারী খাত এবং পাবলিক সেক্টর উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা বিশ্বাস করে যে বাজারগুলো সাধারণত সম্পদ বরাদ্দ এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে দক্ষ, তবে তারা এও স্বীকার করে যে বাজারগুলো সামাজিক পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হতে পারে, অত্যধিক বৈষম্য তৈরি করতে পারে এবং যা অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করতে পারে। তাই এসব সমস্যা সমাধানে সরকারি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন।

কল্যাণ রাষ্ট্রঃ সোস্যাল ডেমোক্রেটিক মডেলের ভিত্তিপ্রস্তর হলো একটি শক্তিশালী কল্যাণ রাষ্ট্র। এখানে সকল নাগরিকের জীবনযাত্রার মৌলিক মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার প্রদত্ত সামাজিক কর্মসূচিগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হয়। এই প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

  • সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবাঃ আয় বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা।
  • জনশিক্ষাঃ সকল স্তরে বিনামূল্যে বা অধিক ভর্তুকিযুক্ত শিক্ষা।
  • সামাজিক সুরক্ষাঃ বয়স্ক, বেকার এবং প্রতিবন্ধীদের ভাতা প্রদান।
  • সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনঃ শালীন এবং সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন নিশ্চিত করা।

প্রগতিশীল কর (Progressive Taxation): সোস্যাল ডেমোক্র্যাটরা সাধারণত প্রগতিশীল কর ব্যবস্থাকে সমর্থন করে, যেখানে উচ্চ আয়ের লোকেরা তাদের আয়ের একটি বড় শতাংশ কর বাবদ প্রদান করে। এই রাজস্ব তখন সামাজিক কর্মসূচির তহবিল ও সম্পদের পুনর্বণ্টন করতে ব্যবহৃত হয় এবং আয়ের বৈষম্য হ্রাস করে।

শ্রম অধিকার এবং যৌথ দর কষাকষিঃ সামাজিক গণতন্ত্র শক্তিশালী শ্রমিক ইউনিয়ন এবং যৌথ দর কষাকষির অধিকারের গুরুত্বের উপর জোর দেয়। তারা বিশ্বাস করে যে, শ্রমিকদের তাদের কর্মক্ষেত্রে কণ্ঠস্বর থাকা উচিত এবং ইউনিয়নগুলো ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কাজের পরিবেশ এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বাজার নিয়ন্ত্রণঃ বাজার ভিত্তিক অর্থনীতিকে সমর্থন করার সময়, সোস্যাল ডেমোক্র্যাটরা বাজারের ব্যর্থতা মোকাবেলা, ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা এবং Monopoly প্রতিরোধের জন্য নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকার করে। এতে অর্থবাজার, পরিবেশগত মান এবং ভোক্তা সুরক্ষা আইন সম্পর্কিত বিধানগুলোও সম্পৃক্ত থাকে।

সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্বারোপঃ সামাজিক গণতান্ত্রিক অর্থনৈতিক মডেলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ন্যায়সঙ্গত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করা। এর মধ্যে রয়েছে আয় বৈষম্য হ্রাস, সামাজিক গতিশীলতার সুযোগ প্রদান এবং সকল নাগরিকের মৌলিক চাহিদা ও সুযোগ নিশ্চিত করা।

সোস্যাল ডেমোক্রেটিক দেশগুলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, বহু-দলীয় ব্যবস্থা এবং নাগরিক স্বাধীনতার সুরক্ষা সহ উদার গণতান্ত্রিক নীতি মেনে চলে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে পুঁজিবাদী কাঠামোর মধ্যে কাজ করে কিন্তু সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য মোকাবেলার জন্য উল্লেখযোগ্য সরকারী হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্বের সাথে স্বীকার করে।

প্রশ্ন আসতে পারে, একই রকম লক্ষ্য Welfare State এর মাধ্যমেও অর্জিত হতে পারে, যেখানে মুক্তবাজার অর্থনীতি থাকবে, গণতন্ত্র থাকবে। তাহলে Social Democratic State কেনো?

দেখুন, পুঁজিবাদের লাগামহীন দৌরাত্বের কারণেই Social Democratic State এর ধারণা এসেছে। এখানে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা জন্যে গণতন্ত্রে সমাজবাদ ও সাম্যবাদের কিছু ধারণাকে গ্রহণ করা হয়েছে ।  মুক্তবাজার অর্থনীতির কুফল স্বরূপ যেখানে আয় এবং সামাজিক বৈষম্য মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে সেখানেই রাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

এবার আসুন দেখি, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে সোস্যাল ডেমোক্রেসির চ্যালেঞ্জগুলো কি কিঃ

অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতাঃ বাংলাদেশ দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং অনুন্নত অর্থনীতির সাথে লড়াই করছে। শক্তিশালী কল্যাণ কর্মসূচি, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রগতিশীল করের মতো সামাজিক গণতান্ত্রিক নীতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট আর্থিক সংস্থান প্রয়োজন।

দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাঃ সামাজিক গণতান্ত্রিক নীতির কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী ও দক্ষ সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। বাংলাদেশ দুর্বল প্রশাসন, দুর্নীতি এবং দক্ষ কর্মীর অভাবে ভুগছে, যা এই ধরনের নীতির সফল বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

কাঠামোগত বৈষম্যঃ বাংলাদেশে বিদ্যমান বর্ণ, জাতিগত বা জমির মালিকানার মতো বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এই বৈষম্যগুলো পুনর্বণ্টনমূলক নীতিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করতে পারে এবং সামাজিক গণতান্ত্রিক মডেলের জন্য সামাজিক ঐকমত্য গড়ে তোলা কঠিন করে তুলতে পারে।

বাহ্যিক চাপঃ বিশ্বায়ন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর উপর নয়া-উদারবাদী অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে পারে যা বাজার উদারীকরণ এবং নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেয়। এটি তাদের নীতিগত অবস্থানকে সীমাবদ্ধ করতে পারে এবং সামাজিক গণতান্ত্রিক বিকল্পগুলো অনুসরণ করা কঠিন করে তুলতে পারে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনঃ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জাতিগত বা ধর্মীয় বিভাজন এবং দুর্বল নাগরিক সমাজ বিদ্যমান, যা সামাজিক গণতন্ত্রের সমর্থনে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টিতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

শিল্পায়নের অভাবঃ সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচিকে সমর্থন করার জন্য কর্মসংস্থান এবং করের রাজস্ব সৃষ্টির জন্য একটি শক্তিশালী শিল্প ভিত্তি প্রায়শই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশে উন্নত শিল্প খাতের অভাব রয়েছে, যা সামাজিক গণতান্ত্রিক নীতি বাস্তবায়নের ক্ষমতা সীমিত করতে পারে।

ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারঃ উপনিবেশবাদ, ঐতিহাসিক অবিচার এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনার দুঃশাসন দেশে বৈষম্য, শোষণ এবং অনুন্নয়নের উত্তরাধিকার রেখে গেছে। এই উত্তরাধিকার কাটিয়ে ওঠা এবং আরও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গড়ে তোলা একটি দীর্ঘ এবং জটিল প্রক্রিয়া হতে পারে।

গ্লোবাল ইকোনমিক অর্ডারঃ বর্তমান গ্লোবাল ইকোনমিক অর্ডার, মুক্ত বাণিজ্য এবং মূলধন গতিশীলতার উপর জোর দিয়ে, সামাজিক গণতান্ত্রিক নীতি অনুসরণ করতে চাওয়া বাংলাদেশের জন্যে চ্যালেঞ্জিং এবং নয়া-উদারবাদী রীতিনীতি মেনে চলার জন্য চাপের মুখোমুখি বা অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকির মুখোমুখি হবার সম্ভাবনা রয়েছে ।

জলবায়ু পরিবর্তনঃ জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের মতো বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং স্থিতিস্থাপকতা তৈরির জন্য যথেষ্ট বাজেট সংস্থানের প্রয়োজন হবে যা সামাজিক গণতান্ত্রিক লক্ষ্য থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিতে পারে।

বাংলাদেশ কি সোস্যাল ডেমোক্রেসির মাধ্যমে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারবেঃ

আগেই বলেছি, এখানে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কিন্তু তারচেয়েও বড় বিপদের মধ্যে আমরা আছি যদি না একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হই। ফ্যাসিস্ট হাসিনার রেখে যাওয়া শত বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ, বিভাজিত রাজনৈতিক ও সমাজ ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি দুর্বৃত্তায়িত প্রশাসন, আইন ও বিচার ব্যবস্থা বাংলাদেশ কে গভীর গিরিখাদে ফেলে দিয়েছে। আমাদের ঘুরে দাঁড়াতেই হবে, জুলাই বিপ্লব আমাদের জাতীয় জীবনে সেই আশার জাগিয়েছে। প্রাণশক্তির যোগান দিয়েছে।

তাহলে করণীয় কিঃ

 শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা

  • অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনঃ সার্বজনীন ভোটাধিকারসহ নিয়মিত, স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা।
  • আইনের শাসনঃ একটি শক্তিশালী, নিরপেক্ষ আইনি ব্যবস্থা যা সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
  • স্বাধীন বিচার বিভাগঃ পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার লোকদের কে ছাটাই করে আইনকে সমুন্নত রাখার জন্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
  • বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাঃ জুলাই বিপ্লবের সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ উন্মুক্ত আলোচনা এবং জবাবদিহিতা ও ভারতীয় আধিপত্যবাদমুক্ত সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে হবে।
  • নাগরিক সমাজঃ বিদেশী প্রভাবমুক্ত প্রো-বাংলাদেশী বেসরকারী সংস্থা এবং বিভিন্ন নাগরিক সমাজের বিকাশ কে উৎসাহিত করা।

 মিশ্র অর্থনীতির বিকাশ

  • নিয়ন্ত্রিত বাজার-ভিত্তিক পদ্ধতিঃ নতুনত্ব এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বেসরকারী উদ্যোগ এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার অর্থনীতি চালু করতে হবে, তবে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও Monopoly রোধ করার জন্যে সরকারী নজরদারী রাখতে হবে। বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়াত্ব বৃহৎ শিল্প কারখানা স্থাপন করতে হবে।
  • সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীঃ ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য বেকার ভাতা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।
  • নিয়ন্ত্রণঃ মনোপলি প্রতিরোধ, ভোক্তাদের সুরক্ষা এবং ন্যায্য শ্রম অনুশীলন নিশ্চিত করার জন্য সরকারী তদারকি করতে হবে।
  • অবকাঠামোতে বিনিয়োগঃ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করার জন্য সুপরিকল্পিত রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে।
  • অধিকতর রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলঃ বিদেশী বিনিয়োগ সহজীকরণ ও আরো শতাধিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গাড়ী এবং জাহাজ নির্মাণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

শিক্ষা ও মানব সম্পদে অগ্রাধিকার

  • শিক্ষায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকারঃ পটভূমি নির্বিশেষে সকল শিশুর জন্য বিনামূল্যে মানসম্পন্ন শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
  • বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণঃ কারিগরি শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্যে পাশ্চাত্যের শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ বিনামূল্যে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরী। দেশে যুক্তরাষ্ট্রের কারিকুলামে সরকারি খরচে পর্যাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
  • স্বাস্থ্যসেবাঃ সুস্থ এবং উত্পাদনশীল জনসংখ্যা নিশ্চিত করার জন্য দরিদ্রদের জন্যে বিনামূল্যে বা সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা চালু করতে হবে। দেশে যুক্তরাষ্ট্রের কারিকুলামে সরকারি খরচে পর্যাপ্ত মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বৈষম্য কমানো

  • প্রগতিশীল করঃ Progressive Taxation বা প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা চালু করতে হবে যেখানে উচ্চ উপার্জনকারীরা তাদের আয় অনুযায়ী অধিক কর প্রদান করবে।
  • সামাজিক আবাসন কর্মসূচীঃ নিন্ম ও মধ্যম আয়ের লোকদের জন্যে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন কর্মসূচী নিতে হবে।
  • ন্যূনতম মজুরিঃ সকল শ্রমিকের জন্য জীবনধারণের উপযোগী নূন্যতম মজুরি নিশ্চিত করা।
  • সমান সুযোগঃ জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্যে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং কোটা প্রথার বিলুপ করতে হবে।

সামাজিক অন্তর্ভুক্তি

  • সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষাঃ জাতিগত, ধর্মীয় ও অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা করতে হবে।
  • লিঙ্গ সমতাঃ শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনীতিতে নারীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
  • প্রবেশাধিকারঃ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সর্বজনীন স্থান এবং পরিষেবাগুলো নিশ্চিত করা।

পরিবেশগত স্থায়িত্ব

  • বিধিমালাঃ পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলগুলো থেকে সহায়তা নিয়ে জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় টেকসই কর্মসূচী হাতে নিতে হবে।
  • নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগঃ টেকসই শক্তির উত্সের জন্যে নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে।
  • সংরক্ষণঃ প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

গুরুত্ব বিবেচনায় পদক্ষেপ

  • স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পণাঃ পরিবর্তন সময় লাগে। ক্রমবর্ধমান অগ্রগতি, স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যগুলোতে মনোনিবেশ করতে হবে।
  • আন্তর্জাতিক সহযোগিতাঃ আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অন্যান্য দেশের সমর্থন আদায়ের জন্যে কূটনীতিকে পুনঃবিন্যাস করতে হবে। চীন, মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির উপর জোরারোপ করতে হবে।
  • নাগরিক অংশগ্রহণঃ সামাজিক গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের সম্পৃক্ত করা।

জুলাই বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে জন-আকাংখা বাস্তবায়নের জন্যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চালু করতে হবে যারা Welfare State প্রতিষ্ঠার জন্যে কাজ করবে। বৈশ্বয়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের মতো অধিক জনসংখ্যা ও কম সম্পদের দেশে জনসংখ্যা কে জনসম্পদে পরিণত করার কোনো বিকল্প নেই। দেশপ্রেমিক দক্ষ, সৎ ও মেধাবী নেতৃত্বই পারে কেবল বাংলাদেশকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।

স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ইনসাফ ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হোক।

মইনুল হক

ডেট্রয়েট, মিশিগান।

আরো সংবাদ ও বিশ্লেষণ

অন্যান্য ট্যাগ সমূহঃ

জনপ্রিয় আর্টিক্যাল