হোমসংবাদ বিশ্লেষণমধ্যপ্রাচ্যে জাতীয় সার্বভৌমত্বের পতন

মধ্যপ্রাচ্যে জাতীয় সার্বভৌমত্বের পতন

প্রকাশ

তারিখ

বিভাগ

সপ্তদশ শতাব্দীর দার্শনিক টমাস হবসের ভাষা ধার করে বলা যায়—মধ্যপ্রাচ্য এখন যেন ‘সবার বিরুদ্ধে সবার যুদ্ধ’-এর এক ভয়াবহ মঞ্চে পরিণত হয়েছে

যারা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে একটি আঞ্চলিক দাবানলে ঠেলে দিতে পারে, বর্তমান পরিস্থিতি তাদের আশঙ্কাকেই ক্রমশ সঠিক প্রমাণ করছে।

সংঘাতের সর্বশেষ বিস্তার ঘটেছে ইরাকে। সেখানে ইরানের মিত্র বলে বিবেচিত ইরাকি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব—উভয় দেশই বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেনের হুথি কর্তৃপক্ষ লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর আবারও হামলা শুরু করেছে। এর ফলে হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। সৌদি আরব ইয়েমেনে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এই সংঘাতে নিজেদের পক্ষে আরও কয়েক ডজন দেশকে টেনে আনার চেষ্টা করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাব দিতে ইরান যে ‘অনুভূমিক সংঘাত সম্প্রসারণের’ কৌশল নিয়েছে, তাতে আরও বহু দেশ সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানি হামলার জবাবে সৌদি ও আমিরাতি বাহিনী ইরানে আক্রমণ চালিয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলা হয়েছে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানেও। সর্বশেষ মার্কিন হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে জর্ডানে।

গত সপ্তাহে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর দামিয়েত্তাতেও। অজ্ঞাত উৎসের একটি ড্রোন সেখানে দুটি জাহাজে আগুন লাগিয়ে দেয়। কেউ কেউ মনে করছেন, ইরানের মিত্র কোনো পক্ষ এর জন্য দায়ী হতে পারে। তবে মিসরের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা ইরান এ ঘটনার সঙ্গে নিজেদের কোনো সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে এবং সম্ভাবনা উত্থাপন করেছে যে এটি ইসরায়েলের সাজানো ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ হামলাও হতে পারে।

ইরান যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট সহিংসতা এখন এতটাই বিস্তৃত হয়েছে যে তা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের সঙ্গেও মিশে যেতে শুরু করেছে। কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়াগামী একটি ইরানি জাহাজে ইউক্রেনের হামলা তারই উদাহরণ। ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ যদি একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়, মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত একটি রাষ্ট্র এতে সন্তুষ্ট হবে—ইসরায়েল।

শুধু সহিংসতার বাস্তব বিস্তারই নয়, সামনে আরও বড় সংঘাতের হুমকিও রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময় শুধু ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা বাড়ানোর হুমকিই দেননি, এমনকি ওমানেও হামলার হুমকি দিয়েছেন। অথচ ওমানই সংঘাত প্রশমনের চেষ্টা চালানো অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ।

বর্তমান ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যে সহিংসতা চলছে, তার ভিত্তি অবশ্য যুদ্ধ শুরুর আগেই তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও ইরাকি ভূখণ্ড ব্যবহার করে—যে দেশটির বিরুদ্ধে তারা একসময় বড় ধরনের আগ্রাসী যুদ্ধ চালিয়েছিল—ইরানের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে। ২০২০ সালে বাগদাদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক কমান্ডার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরান ইরাকে মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা একটি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

আজকের ইয়েমেন-সৌদি সংঘর্ষেরও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। কয়েক বছর আগে সৌদি আরব ইয়েমেনের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক বিমানযুদ্ধ পরিচালনা করেছিল। হুথিদের বিকল্প শক্তি দাঁড় করাতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—উভয় দেশই ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক হস্তক্ষেপ করেছে। পরে দক্ষিণ ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের প্রতি আমিরাতের সমর্থনকে কেন্দ্র করে এই দুই উপসাগরীয় আরব মিত্রের মধ্যেও মতবিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধও ইয়েমেনের মাটিতে সহিংস রূপ নিয়েছে।

লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে হুথিদের বর্তমান বাধা দেওয়ার কৌশলটিও নতুন নয়। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অমানবিক সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে এর আগেও তারা একই কৌশল ব্যবহার করেছিল।

অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলি সহিংসতার আরও বহু উদাহরণ রয়েছে। এর মধ্যে আছে লেবাননে অতীত ও বর্তমান হামলা এবং লেবাননের ভূখণ্ড দখল, সিরিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী বিমানযুদ্ধ ও সিরীয় ভূখণ্ডে ক্রমবর্ধমান দখলদারিত্ব, ইরাক ও কাতারের ভূখণ্ডে বিমান হামলা এবং ইরান, জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশে গোপন হত্যাকাণ্ড পরিচালনা।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অবস্থা দেখে সপ্তদশ শতাব্দীর রাজনৈতিক দার্শনিক টমাস হবসের একটি বিখ্যাত বাক্য ধার করা যায়—এ যেন ‘সবার বিরুদ্ধে সবার যুদ্ধ’।

অবশ্য এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই দেখা গেছে, তা নয়। মধ্য ও পূর্ব আফ্রিকার কিছু অংশেও একই ধরনের বিস্তৃত ও সংক্রামক সহিংসতা দেখা গেছে। কিন্তু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিই বিশেষভাবে উদ্বেগজনক—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে এর সম্পর্ক বিবেচনা করলে।

গাজা উপত্যকাসহ অঞ্চলের সবচেয়ে বিপর্যস্ত এলাকাগুলোতে মানুষের জীবন সম্পর্কে হবসের আরেকটি বিখ্যাত বাক্য ব্যবহার করা যায়—জীবন সেখানে ‘নোংরা, পাশবিক ও সংক্ষিপ্ত’।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং গত মাসেই হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। অথচ ইরাকে মিলিশিয়া লক্ষ্যবস্তুর ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন ও সৌদি হামলাকে তিনি বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্বের ‘নির্লজ্জ লঙ্ঘন’।

অন্য দেশের ভূখণ্ডে হামলা কিংবা দখলদারিত্বের যে আঞ্চলিক চিত্র তৈরি হয়েছে, তার মূল বৈশিষ্ট্যই হলো জাতীয় সার্বভৌমত্বের ধারণার ক্রমাগত ভেঙে পড়া।

জাতিরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। জাতিসংঘ সনদে স্পষ্টভাবে ‘সকল সদস্য রাষ্ট্রের সার্বভৌম সমতার নীতি’ স্বীকৃত হয়েছে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘কোনো রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের হুমকি বা বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে’ বাধ্য করা হয়েছে।

অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির একমাত্র স্বীকৃত ব্যতিক্রম হলো Responsibility to Protect বা ‘সুরক্ষার দায়িত্ব’ (R2P)। গণহত্যা কিংবা মানবাধিকারের বিরুদ্ধে অন্য কোনো গুরুতর অপরাধ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের ধারণা এর সঙ্গে যুক্ত।

কিন্তু আজ মধ্যপ্রাচ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে যে সহিংসতা চলছে, তা মানবাধিকার রক্ষা করছে না। বরং বহু ক্ষেত্রেই সেই সহিংসতা নিজেই মানবাধিকারের বিরুদ্ধে অপরাধে পরিণত হয়েছে।

জাতিরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের আধুনিক ধারণাটির উৎপত্তি সাধারণত ১৬৪৮ সালের ওয়েস্টফেলিয়ার শান্তিচুক্তি থেকে ধরা হয়। অর্থাৎ ধারণাটি মূলত ইউরোপীয় ইতিহাস থেকে এসেছে। কিন্তু আজ সার্বভৌমত্বের ওপর অন্তত সমান গুরুত্ব দিচ্ছে অ-ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোও। বিশেষ করে চীন অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির গুরুত্ব বারবার তুলে ধরে। গ্লোবাল সাউথের অধিকাংশ দেশেই এই নীতির গভীর আবেদন রয়েছে।

ওয়েস্টফেলিয়ার শান্তিচুক্তি মধ্য ইউরোপে ত্রিশ বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছিল। জটিলতা, দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং বিপুলসংখ্যক যুদ্ধরত পক্ষের দিক থেকে সেই যুদ্ধের সঙ্গে আজকের মধ্যপ্রাচ্যের অনেক মিল রয়েছে।

দুই ক্ষেত্রেই ধর্মীয় মাত্রা ছিল। সপ্তদশ শতাব্দীর ইউরোপে সেটি ছিল ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্টদের মধ্যকার সংঘাত। আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছে শিয়া-সুন্নি বৈরিতা এবং ইসরায়েলের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইহুদি জাতীয়তাবাদ।

দুই পরিস্থিতিতেই যুদ্ধক্ষেত্রের ভেতরের অপেক্ষাকৃত ছোট শক্তিগুলোর পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন ছিল, তেমনি ছিল বৃহৎ শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপ। ত্রিশ বছরের যুদ্ধে বৃহৎ শক্তি বলতে প্রধানত ফ্রান্স ও সুইডেনকে বোঝানো হতো।

ত্রিশ বছরের যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত এমন একটি বিস্তৃত শান্তিচুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার একটি স্থায়ী নীতির জন্ম দেয়। সেই ইতিহাস আজকের মধ্যপ্রাচ্যের বিশৃঙ্খলা নিয়ে কিছুটা আশাবাদী হওয়ার সুযোগ দিতে পারে।

কিন্তু হতাশ হওয়ার কারণও অন্তত সমান। আর সেই ইতিহাসে সতর্ক হওয়ার মতো শিক্ষাও রয়েছে।

ত্রিশ বছরের যুদ্ধ ভয়াবহ মূল্য পরিশোধ করেছিল। এর সমাপ্তি কোনো আনন্দঘন মিলনমেলার মধ্য দিয়ে হয়নি; যুদ্ধরত পক্ষগুলো নিঃশেষিত ও ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল বলেই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ থেমেছিল।

এমন অভিজ্ঞতা কোনো অঞ্চলের জন্যই কাম্য হতে পারে না—এমনকি শেষ পর্যন্ত চরম ক্লান্তি শান্তি এনে দেবে, এমন আশা থাকলেও নয়।

বড় শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপও পরিস্থিতি উন্নত করেনি। বরং যুদ্ধ ও মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত করে তা আরও খারাপ করেছিল। ত্রিশ বছরের যুদ্ধের মাঝামাঝি পর্যায়ে ফ্রান্সের হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে এটি সত্য ছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য—বর্তমান হস্তক্ষেপও যার অন্তর্ভুক্ত।

হবসের রাজনৈতিক চিন্তার ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছিল তাঁর নিজ দেশ ইংল্যান্ডের গৃহযুদ্ধ। তবে ইউরোপ মহাদেশের ব্যাপক বিশৃঙ্খলাও সম্ভবত তাঁর চিন্তাকে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ Leviathan প্রকাশিত হয় ত্রিশ বছরের যুদ্ধ শেষ হওয়ার তিন বছর পর।

একটি দেশের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য হবসের সমাধান ছিল এমন একজন সর্বশক্তিমান সার্বভৌম শাসক, যিনি একটি সামাজিক চুক্তির অন্তর্নিহিত সম্মতির ভিত্তিতে শাসন করবেন।

এই ধারণাকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় প্রয়োগ করলে একদল রাষ্ট্রের মধ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য সমাধান দাঁড়ায়—এমন একটি আধিপত্যশীল শক্তি বা হেজেমন, যে যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা চাপিয়ে দিতে পারবে।

কিন্তু ত্রিশ বছরের যুদ্ধ এবং ওয়েস্টফেলিয়ার শান্তিচুক্তি দেখিয়েছিল, এই সমাধান কার্যকর নয়।

সেই সময় স্বাভাবিকভাবেই সম্ভাব্য হেজেমন ছিলেন ভিয়েনার হ্যাবসবার্গ সম্রাট। পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের সম্রাট হিসেবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপের সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে শৃঙ্খলা রক্ষার কিছু কর্তৃত্ব তাঁর থাকার কথা ছিল।

কিন্তু ধর্মীয় বিভক্তির পাশাপাশি সেই কর্তৃত্বের সীমা নিয়েই ডাচি ও প্রিন্সিপ্যালিটিগুলোর মধ্যে বিরোধ ছিল—যে বিরোধ যুদ্ধের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

শেষ পর্যন্ত শান্তিচুক্তিতে সম্রাট সরাসরি যেসব ভূমি শাসন করতেন, সেসব অঞ্চলে তাঁর সার্বভৌম ক্ষমতা স্বীকৃত হয়; কিন্তু পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের সম্রাট হিসেবে তাঁর বৃহত্তর কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে যায়।

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে সমকালীন মার্কিন নীতির জন্য এখান থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের হোক কিংবা অন্য কারও—আধিপত্য বা হেজেমনি বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের বিশৃঙ্খলা থেকে বেরিয়ে আসার পথ নয়; এমনকি ধরে নিলেও যে সেই আধিপত্য বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

জাতিরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আরেকটি শিক্ষা হলো—একটি আদর্শিক বা ধর্মীয় শিবিরের ওপর অন্য শিবিরের বিজয়ও বিশৃঙ্খলার সমাধান নয়।

মধ্যপ্রাচ্যে ন্যূনতম শান্তিও তখনই সম্ভব হবে, যখন জাতিসংঘ সনদে যে পারস্পরিক সম্মান, সংযম ও সহাবস্থানের নীতি ধারণ করা হয়েছে, তা ব্যাপকভাবে অনুসৃত হবে।

অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর রাজনীতি, আদর্শ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য অব্যাহত থাকবেই। সেই অনিবার্য পার্থক্য মেনে নিয়েই একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্য ক্রমেই আরও গভীরভাবে হবসের সেই ভয়াবহ বাস্তবতার দিকে এগিয়ে যাবে—

সবার বিরুদ্ধে সবার যুদ্ধ।

মুল লেখকঃ পল আর. পিলার

পল আর. পিলার জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের নন-রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো এবং Quincy Institute for Responsible Statecraft-এর নন-রেসিডেন্ট ফেলো। তিনি Geneva Center for Security Policy-এরও অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

সাম্প্রতিক পোস্ট